7.11.18
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভাস্থল ইতোমধ্যে নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। এছাড়া ঢাকা ও তার আশে-পাশের জেলাগুলো থেকে নেতা-কর্মীরা বিশাল মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দীতে আসছেন। রঙ বেরঙের ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।
স্লোগানে স্লোগানে নেতা-কর্মীরা তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন। ‘আমার নেত্রী আমার মা, জেলে থাকতে দিব না’, ‘বন্দি আছে আমার মা, ঘরে ফিরে যাবো না’, ‘হামলা করে আন্দোলন- বন্ধ করা যাবে না’- ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন। তবে একটি স্লোগান সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সেটি হলো ‘জেলে নিলে আমায় নে, আমার মাকে ছেড়ে দে’ বুকে সাদা অক্ষরে লেখা এই স্লোগানটি নেতা-কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এছাড়া মাথায় কাপড়ের ব্যান্ডে ও স্লোগান লেখা রয়েছে। এরকম ব্যতিক্রমি স্লোগানধারী জনসভার মঞ্চের সামনেই অবস্থান করছেন।
১৯৯০ সালে ১০ নভেম্বর ঢাকার গুলিস্তানে জিপিও এর সামনে নূর হোসেন তার বুকে পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে মিছিল করেন। পরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। নূর হোসেনের শহীদ হওয়ার পরেই স্বৈরাচারী এরশাদের পতনের সূচনা হয়।
ঠিক ২৮ বছর পর এই নভেম্বর মাসেই আবারো সে রকম একটি স্লোগান নিয়ে জনসভায় হাজির হওয়ায় উপস্থিত নেতা-কর্মী ও মিডিয়ার নজর কেড়েছে এই স্লোগানটি।
এদিকে জনসভা শুরু হওয়ার কথা দুপুর দুই টায়। কিন্তু সকাল থেকেই জনসভায় আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে জনসভাস্থল প্রায় পরিপূর্ণ।
সকাল ১০টা থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থান নেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নেতাকর্মী-সমর্থকদের ভিড়।
দুপুর সাড়ে বারো টার দিকে দেখা যায়, মঞ্চের সামনের জায়গা বিএনপির নেতাকর্মীতে পরিপূর্ণ। তাঁদের উজ্জীবিত রাখতে সংগীত পরিবেশন করছেন জাসাসের শিল্পীরা।
3.11.18
ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেন হজেস সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে চীনের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ বাধার আশংকা রয়েছে।
বুধবার তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলোর উচিত রাশিয়ার মোকাবেলায় তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা আরো বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করা কারণ চীনের বিরুদ্ধে নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমেরিকাকে নজর দিতে হবে। ইউরোপের পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় একইসঙ্গে চীনের হুমকি মোকাবেলা করার ক্ষমতা আমেরিকার নেই।
বেন হজেস ২০১৪ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান পলিসি অ্যানালাইসিস-এ স্ট্র্যাটেজিক এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করছেন। ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকারে পরিবর্তন এলেও ন্যাটো জোটের প্রতি মার্কিন সরকারের প্রতিশ্রুতি আগের মতোই রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়া, ইউরোপের নিরাপত্তাকে আমেরিকা তার মৌলিক স্বার্থ বলে বিবেচনা করে। ফলে ইউরোপে মার্কিন সামরিক বিনিয়োগ ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে জনান বেন হজেস।
শুক্রবার রাতে গণভবনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দল ও বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। রাত পৌনে ৮টায় সংলাপ শুরু হয়ে শেষ হয় পৌনে ১১টায়। তিন ঘণ্টার এ সংলাপকে উভয় পক্ষই ফলপ্রসূ বলেছে।
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ সংলাপকে ঘিরে আগ্রহ দেশি বিদেশি সব গণমাধ্যমের। সারা বিশ্বের চোখ যেন গণভবনে। যার কারণে গণমাধ্যম কর্মীরাও খুটিয়ে খুটিয়ে এ সংলাপের ভেতরকার সব খবর দিয়েছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের খাবারের ছবিও বাদ যায়নি।
আগ্রহের যায়গা থেকে দ্বিতীয় দিনের সংলাপে গণমাধ্যম কর্মীদের চোখে পড়ে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে সদ্য বিকল্পধারায় যোগ দেয়া শমসের মুবিন চৌধুরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত কথোপকথন। সবাইকে বসতে বলে নিজ আসন থেকে এগিয়ে গিয়ে শমসের মুবিন চৌধুরীর সঙ্গে কী কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী? এমন কৌতূহল সবারই।
ঘটনার সূত্রপাত এভাবে— বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের নেতারা সংলাপের জন্য প্রস্তুত। ১৪ দলের নেতারাও আসন গ্রহণ করেছেন। ঘড়ির কাটায় ৭টা ৪০ কী ৪২ মিনিট হবে। এমন সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপস্থল ব্যাঙ্কোয়েট হলে প্রবেশ করলেন। সবাই দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান।
পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বি চৌধুরী ও মেজর (অব.) মান্নানসহ যুক্তফ্রন্টের নেতারা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে সংক্ষিপ্ত ও অনানুষ্ঠানিক কুশলাদি বিনিময় হয়। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সকলকে বসতে বলেন। বি চৌধুরী বলেন, ‘আপনি প্রধানমন্ত্রী, আপনি আগে বসেন।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আজ প্রধানমন্ত্রী না, হোস্ট।’
তখন সবাই বসছিলেন। এসময় নিজের দাঁড়ানো যায়গা থেকে একটু এগিয়ে শমসের মুবিন চৌধুরীর সামনে যান শেখ হাসিনা। তার সামনে দাঁড়িয়ে ৫০ সেকেন্ড কথা বলেন।
কথার মাঝে প্রধানমন্ত্রীকে ‘জানতাম না তো’ এমন ভঙ্গি করতে দেখা গেছে। এক পর্যায়ে লিখে দেয়ার জন্য হাতে ইশারা করেন।
যদিও প্রধানমন্ত্রী ও শমসের মুবিন চৌধুরীর কথোপকথনে কী ছিল তা জানা যায়নি। তবে কথোপকথনে মনে হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য শেয়ারিং এবং খোঁজখবর দেয়া-নেয়া হয়েছে।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের সংলাপ শুরু হয়।
সংলাপে ১৪ দলীয় জোটের ২৩ সদস্যের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিপরীতে যুক্তফ্রন্টের ২১ সদস্যের নেতৃত্ব দেন জোট নেতা ও বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
সংলাপে অংশ নিতে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বি. চৌধুরীরা গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে প্রবেশ করেন।
সংলাপে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের ২৩ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন, দলনেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, ড. আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আবদুর রহমান, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জাসদের একাংশের সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল।
আর যুক্তফ্রন্টের ২১ নেতা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন, দলনেতা ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, গোলাম সারোয়ার মিলন, আবদুর রউফ মান্নান, ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ ইউসুফ, সহ-সভাপতি মিসেস মাহমুদা চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, সহ-সভাপতি মাহবুব আলী, সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি জেবেল রহমান গাণি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, বিএলডিপি সভাপতি নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, মহাসচিব অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন খান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, জাতীয় জনতা পার্টির সভাপতি শেখ আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ জনদলের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ইউনাইটেড মাইনরিটি ফ্রন্টের চেয়ারম্যান দীলিপ কুমার দাস, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী, সাবেক এমপি মজহারুল হক শাহ চৌধুরী ও এনডিপি’র মহাসচিব মো. মাযহারুল হোসেইন ঈসা।
গত ৩১ অক্টোবর বিকল্পধারার চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী সংলাপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেন। এরপর গণভবনে তাদের শুক্রবার সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেয় আওয়ামী লীগ।
এরআগে বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে সংলাপ করে ক্ষমতাসীন জোট। শুক্রবার বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে সংলাপ হলো। ৫ নভেম্বর জাতীয় পার্টি ও ৮ নভেম্বর বাম দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে ১৪ দল।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, অন্যায়ভাবে বিএনপি নেত্রী আমাকে জেলে পাঠিয়েছিলেন। অনেক জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে আছি। কিন্তু, সেই খালেদা জিয়া এখন জেলে। বিচারের মালিক আল্লাহ। আমি বেঁচে আছি, উনি জেল থেকে বের হয়ে বেঁচে থাকবেন কিনা আল্লাহই ভাল জানেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের লাহিড়ীরহাট চৌরাস্তার মোড়ে নির্বাচনী পথসভায় তিনি একথা বলেন।
সভায় সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালেদ আখতার, ভাইস-চেয়ারম্যান এসএম ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, রংপুর জেলা জাপার যুগ্ম-সম্পাদক হাজি আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাফিউল ইসলাম শাফি, মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আব্দুল বারী, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি রুহুল আমিন লিটন প্রমুখ।
এরশাদ বলেন, ‘সংলাপ, আলোচনা কোনোটাই সফল হবে না। বিএনপি নেতা খুঁজে পাচ্ছে না। তাদের নেতা কে হবেন? দেখা যাবে শেষে বিএনপি নির্বাচনে নেই। মাঠে শুধু থাকবে লাঙল আর নৌকা।’
লাঙল প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, ‘রংপুর সদর আসনের প্রার্থী আমি। মোক তোমরা ভোট দেমোন। আর একবার প্রমাণ করুন আপনারা লাঙল ভালোবাসেন। এরশাদকে ভালোবাসেন। জাতীয় পার্টিকে ভালোবাসেন।’
এরশাদের এই কথায় সভায় উপস্থিত জনতা হাত উপরে তুলে তাকে সমর্থন জানান।
নির্বাচন প্রসঙ্গে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সিল মারা নির্বাচন আর হতে দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ-বিএনপি কেউই দেশের মানুষকে শান্তিতে রাখতে পারেনি। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে চায়। নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে চায়। এখন শুধু লাশ আর লাশ। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টি আবার ক্ষমতায় আসবে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মতো অত্যাচার, লাঞ্ছনা-বঞ্চনা, মিথ্যা মামলা আর হুমকি বাংলাদেশের কোনো নেতাকে সহ্য করতে হয়নি। আমিই একমাত্র নেতা এতকিছুর পর আপনাদের মাঝে আছি। আপনাদের ভালোবাসায় আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। যারা আমাকে ভয় পায়, রংপুরের মানুষকে ভয় পায়, তারাই ষড়যন্ত্র করেছে।’
পথসভায় রংপুর সদরের পাঁচটি ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পার্টি, যুব সংহতি, ছাত্রসমাজ, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, মহিলা পার্টি, ওলামা পার্টি, শ্রমিক পার্টি ও সাংস্কৃতিক পার্টির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
Labels: রাজনীতি
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে সংলাপে বসেছিলো ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। মূলত ঐক্যফ্রন্টের ৭ দাবি নিয়ে ওই আলোচনায় অংশ নেয় ঐক্যফ্রন্ট। এর মধ্যে কয়েকটি দাবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেনে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীহ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
এর মধ্যে রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের তৃতীয় দফা। যেটি হচ্ছে বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক। ঐক্যফ্রন্ট যাতে সাভ সমাবেশ করতে পারে সে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই দিয়েছেন। তিনি বলেন, কেয়ারটেকার সরকারের সময় এই মামলাগুলো দেওয়া হয়েছিল। কেয়ারটেকার সরকারে যারা ছিল, তারা তো বিএনপির লোক ছিল। এ বিষয়ে আমাদের বলার বা করার কী আছে? এই মামলাগুলোর বিষয়ে আদালতেই ভালো বুঝবে।
ঐক্যফ্রন্টের ষষ্ঠ দাবি হলো, নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোট কেন্দ্র, পোলিং বুথ, ভোট গণনাস্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের ওপর ওপর কোনো ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ না করা এবং নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর যে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।
ঐক্যফ্রন্ট ৭ দফা
# অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
# গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
# বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।
# কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালো আইন বাতিল করতে হবে।
# নির্বাচনের ১০ দিন পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্য্ন্ত বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।
# তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা এবং নতুন কোনো মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
1.11.18
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের গঠনের দাবি উত্থান করতে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আর সেটা হলে সেই মন্ত্রিসভায় ১০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব চাইবে সদ্য গঠিত সরকারবিরোধী এই রাজনৈতিক জোট। বৃহস্পতিবার (০১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে এসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ১৪-দলীয় জোটের শীর্ষ ২২ নেতার সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ ১৬ নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ঐক্যফ্রন্ট সূত্র বলছে, তাদের ঘোষিত ৭ দফা দাবির আলোকে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রশ্নে সংবিধান সংশোধনে সরকারি দল রাজি না হলে তারা তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবিতে জোর দেবে। সে ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের বিষয় নেই। এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। আর এটা মেনে নিলে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে বিকল্প প্রস্তাব দেবে। সেটা হলো, মন্ত্রিসভার ১০ শতাংশ সদস্য যেহেতু টেকনোক্র্যাট কোটা থেকে নেওয়ার বিধান আছে, সেখানে ঐক্যফ্রন্ট থেকে নেওয়ার প্রস্তাব থাকবে।
ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মতে, সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি মেনে নিলে এবং মন্ত্রিসভায় ১০ শতাংশ ঐক্যফ্রন্টকে দেওয়া হলে নির্বাচনে সবার জন্য ‘প্রায় সমান সুযোগ’ সৃষ্টি হবে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা যায়, তারা সরকারের পদত্যাগ ও সংবিধান সংশোধনের মতো বিষয়গুলো মানবে না। আর খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার বলে জানানো হবে। এমন কি সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবিও মানা হবে না।
তবে বিরোধী জোটের ছোটখাটো কিছু দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হতে পারে। যার মধ্যে সভা-সমাবেশে বাধা না দেওয়া, তফসিলের পর নতুন মামলা না দেওয়া ও বিরোধী দলের কর্মীদের গ্রেপ্তার না করা, নির্বাচনী প্রচারণায় বিরোধীদের বাধা না দেওয়া। সুনির্দিষ্ট সরকারি কোনো কর্মকর্তার বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা আমলে নেওয়া ইত্যাদি। এমনকি নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য মন্ত্রী করার দাবি এলে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে টেকনোক্র্যাট ক্যাটাগরিতে তা বিবেচনায় নেওয়ারও সম্ভাবনা আছে বলে জানা গেছে।
আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংলাপের মাঝে আপ্যায়ন বিরতি হয়েছে গণভবনে। আপ্যায়নে অংশ নেবেন না বলে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা আগে জানালেও শেষ পর্যন্ত ভোজে অংশ নেন তারা। সব মিলিয়ে ১৮ ধরনের খাবারের ব্যবস্থা ছিল সেখানে।
আলোচনার মাঝপথে রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রধানমন্ত্রী খাওয়াদাওয়া শেষে আবার কথা শুরুর প্রস্তাব রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান ফেলতে পারেননিন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।
দেশের নামকরা হোটেল থেকে আনা ২০ বা ২১ পদের খাবারের তথ্য দুই দিন ধরেই গণমাধ্যমে আসছে। আর সংলাপের আলোচ্যসূচির চেয়ে খাবারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরুর পর বুধবার ঐক্যফ্রন্ট নেতারা জানান তারা খাবেন না।
তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় সংলাপের শুরুতেই অতিথিদের সামনে দেওয়া হয় কমলা লেবু, আপেল ও তরমুজের শরবত এবং চিপস। এরপর আলোচনা শুরু হয়। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে খাবার সরবরাহ চলতে থাকে।
সংলাপে আওয়ামী লীগ এবং তার শরিক ১৪ দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দেন কামাল হোসেন।
গণভবনের কর্মীদের তথ্য এবং খাবারের একটি তালিকা থেকে দেখা যায়, খাবার তালিকায় ছিল মোরগ পোলাও, সাদা ভাত, বাটার নান, মাটন রেজালা, রুই মাছের দো পেঁয়াজা, চিতল মাছের কোপতা, রান্না করা মুরগির মাংস, গরুর মাংসের কাবাব, সুপ, নুডলস, মিক্সড ভেজিটেবল। ছিল কয়েক ধরনের সালাদ।
এ ছাড়া টক দই, মিষ্টি দই ও চিজ কেক ছিল ডেজার্ট হিসাবে। ছিল কোমল পানীয়, চা ও কফি।
এই খাবারের বেশির ভাগ খাবার আনা হয়েছে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল থেকে। চিজ কেক আনা হয়েছে হোটেল র্যা ডিসন থেকে। এটি ড. কামাল হোসেনের বেশ প্রিয় খাবার।
খাসির রেজালা আনা হয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন থেকে। মোরগ পোলাও রান্না করেন পিয়ারু বাবুর্চি।
গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ড. কামালকে সংলাপের সময় জানিয়ে চিঠি দেয়ার সময়ই তার পছন্দের খাবারের কথা জেনে আসতে বলেছিলেন। আর ড. কামাল সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেন রবিবার।
বৃহস্পতিবার ২১ ঐক্যফ্রন্টের নেতাকে নিয়ে গণভবনে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন কামাল হোসেন। তবে শেষ অবধি যাননি বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
এই প্রতিনিধি দলে কামাল হোসেনসহ গণফোরাম এবং বিএনপির ছয় জন করে নেতা, কামালের আরেক উদ্যোগ জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার দুই জন, জেএসডির তিন জন, নাগরিক ঐক্যের দুই জন এবং এদের বাইরে জাফরুল্লাহ চৌধুরীও যোগ দেন।
গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সংলাপে ১৪ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বিপরীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংলাপ শুরু হয়।
এ সংলাপ শুরুর আগেই গণভবনের খাবারের মেন্যু নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়। অবশ্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিনয়ের সঙ্গে নৈশভোজের খাবার প্রত্যাখ্যান করে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সংলাপ করার জন্যে গণভবনের নৈশভোজ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
এ জন্য সংলাপের টেবিলে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের জন্য কোনো খাবার রাখা হয়নি, এমন নয়। তাদের সামনে রাখা হয়েছে, চিপস, বাদাম আর ফলের জুস। কথার ফাঁকে ফাঁকে এই তিন পদের খাবারে চলছে সংলাপ। ইতোমধ্যে ঐক্যফ্রন্টের ৭/৮ নেতা বক্তব্য দিয়েছেন।
দেয়া হয়েছে ড. কামাল হোসেনের প্রিয় চিজ কেক। সেখান থেকে অংশ বিশেষ তাকে মুখেও নিতে দেখা গেছে।
সংলাপে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বাকিরা হলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, ড. আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আবদুর রহমান, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জাসদের একাংশের সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল।
আর জাতীয় ঐক্যজোটের বাকিরা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস ও ড. আব্দুল মঈন খান, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, কার্যকরি সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, মুকাব্বির খান, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দায় আফ্রিক ও আ ও ম শফিকউল্লাহ, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন এবং রবের স্ত্রী ও সহ-সভাপতি তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও তার দলের উপদেষ্টা এসএম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক ছাত্রনেতা সুলতান মুহাম্মদ মনসুর ও আ ব ম মোস্তফা আমিন এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ।